কিভাবে লেপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটারের স্পীড বাড়ানো যায় ? [Merchant Technology]



প্রিয় বন্ধুরা, আশা করছি ভালো আছেন সবাই । আধুনিক বিশ্বকে আরো আধুনিক করতে লেপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটার জনীত প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান বিশ্বে প্রায় ৫৭% লোকজন কম্পিউটার ব্যবহার করেন। তাই যারা এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করেন তাদের কম্পিউটারের একটি কমন সমস্যা প্রায়ই হয়। সমস্যাটি  হলো - কম্পিউটার  স্লো বা হ্যাং হওয়া।  বন্ধুরা আজ আপনাদেরকে জানাবো কিভাবে লেপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটারের স্পীড বাড়ানো যায় ? এবং কিভাবে কম্পিউটার সুপার স্পীডে দীর্গ দিন ব্যবহার করা যায়।  চলুন শুরো করা যাক  .......

আমাদের মধ্যে অধিকাংশই উইন্ডোজ কম্পিউটার ব্যবহার করি। কিন্তু উইন্ডোজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি সময়ের সাথে ধীরগতির হয়ে যায়। তবে আপনি চাইলে কিছু কৌশল অবলম্বন করে সহজেই উইন্ডোজ পিসির স্পিড বাড়াতে পারেন। চলুন দেখে নিই তেমনই কিছু টিপস।

১। কম্পিউটার রান অপশন্স থেকে temp, %temp%, prefetch এবং recent ফাইল গুলো ডিলিট করে দিন। ডিলিট করার সময় ইউজার পারমিশন চাইতে পারে। কম্পিউটারে কাজ করার সময় অনেক টেম্পরারি ফাইল বা জাংক ফাংশন তৈরি হয় এবং উল্লিখিত ফোল্ডারগুলোতে জমা থাকে। যেগুলা আমাদের কম্পিউটারের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই নিয়মিত এই ফাইলগুলো ডিলিট করে আপনার কম্পিউটারের গতি বাড়াতে পারেন।

২। নতুন করে অপারেটিং সিস্টেম সেটআপ করতে পারেন। লম্বা সময় একই অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করলে অনেক সময় ভাইরাসের কারণে অথবা ক্র্যাসিং ফাইল এর জন্য কম্পিউটারের গতি কমে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন করে অপারেটিং সিস্টেম সেটআপ দিলে আমাদের কম্পিউটার এর গতি বৃদ্ধি পেতে পারে।





৩। মাদারবোর্ড এ অনেক সময় ময়লা, ধুলা-বালি জমে। আমাদের কম্পিউটার এর জন্য এটি খুবই ভয়ানক এবং গতি কমিয়ে দেয় ৫০-৭০% পর্যন্ত! তাই নিয়মিত মাদারবোর্ড পরিষ্কার রাখা উচিত। সিপিউ এর কুলিং ফ্যান, পাওয়ার সাপ্লাই পরিষ্কার নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিত। তবে ল্যাপটপ এর মাদার-বোর্ড পরিষ্কার এর সময় সতর্ক থাকা উচিত। ভালো হয় যদি সার্ভিস সেন্টার এ নিয়ে পরিষ্কার করেন।

৪। কম্পিউটার এর র‍্যাম, মাদারবোর্ড এবং বাস স্পিড এর উপর স্পিড নির্ভর করে অনেকাংশে। সুতরাং আপনি চাইলে র‍্যাম এবং প্রসেসর আপডেট করে স্পিড বাড়াতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে শুধু র‍্যাম বা শুধু প্রসেসর পরিবর্তন করা উচিত নয়। এতে করে মাদারবোর্ড এর সমস্যা হতে পারে। র‍্যাম বা প্রসেসর আপডেট এর সময়, মাদারবোর্ড এর সাথে কম্পাইল করে সে দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

৫। অনেক সময় সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার এর কম্বিনেশন ঠিক না থাকায় পিসি স্লো হয়ে যায়। যেমন, এন্ড্রয়েড স্টুডিও ওপেন করলে ৪জিবি র‍্যাম এর কম্পিউটারে আপনি অন্য কোন কাজ করতে পারবেন না। আবার র‍্যাম যদি এর থেকেও কম হয় তাহলে ভার্চুয়াল ইমুলেটর চালাতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে কনফিগারেশন এর সাথে সফটওয়্যার এর কম্বিনেশন ব্যালেন্স করে কম্পিউটার স্পিড বাড়াতে পারেন।

৬। অনেক সময় সফটওয়্যার আপডেট না করার কারণে কম্পিউটার এর স্পিড কমে যেতে পারে। যেমন আগে হয়ত কোন ওয়েব সাইট শুধু টেবিল দিয়ে ডিজাইন করা ছিল যেটা এখন জাভাস্ক্রিপ্ট এ আপডেট করা হয়েছে। এখন আপনার ব্রাউজার যদি পুরাতন হয় তাহলে এই ওয়েব সাইট লোড হতে সময় লাগবে। একই ভাবে অন্য সফটওয়্যার গুলো কম্পিউটার এর স্পিড কমাতে/বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

৭। যারা অনেক আগের কম্পিউটার ও লেপটপ ব্যবহার করছেন  যেমন : ডুয়েল কোর/ কোর টু ডু  প্রসেসর।  তারা  উপরের ৬ টি রোল সঠিক ভাবে পালন করার পরেও যদি কম্পিউটার এর স্পিডে সন্তুষ্টি জনক না হন । তবে  তাদের জন্য আরেকটি সুপার সামাধান রয়েছে ।  জিনিসটি হলো  (এসএসডি)  অর্থাৎ - সলিড স্টেড ড্রাইভ।

এগুলোর যেকোটি কম্পিউটারে লাগিয়ে এতে যেকোন অপারেটিং সিস্টেম সেটাপ করুন যেমন:  উইন্ডোজ ৭, ৮, ৮.১, ১০ অথবা ১১ । সেটাপ শেষে কম্পিউটারটি রিসেট  করুন এবং  উইন্ডোজ এক্টিভেট করে নিন। এবার দেখুন জাদু ! আপনার কম্পিউটারটি আগের তুলনায়  ৩ গুন বেশি স্পিডে বন্ধ এবং চালু হবে । এবার আপনি নিজেই বুজতে পারবেন এর কার্য ক্ষমতা সম্পর্কে।  
ধন্যবাদ।

Post a Comment

0 Comments