প্রিয় ভিউয়ার্স আশা করি আপনারা ভালো আছেন সবাই । ভিউয়ার্স আজ আমি আপনাদের সামনে ভিডিও এডিট করার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় টিপস নিয়ে হাজির হয়েছি। ভিউয়ার্স আপনারা অনেকেই আছেন যারা প্রফেশনাল বা ব্যক্তিগত-ভাবে ভিডিও এডিট-এর কাজ করে থাকেন, আর এতে অনেক সাফল্যও বয়ে এনেছেন। কিন্তু আজকে আমি এই টিউন করছি যারা কিনা ভিডিও এডিটিং-এর জগতে নতুন তাদের জন্য,এক্সপার্ট ভাইদের জন্য নয়।আসুন জেনে নেই ভিডিও এডিটিং সম্পর্কিত আজকে কি কি থাকছে।
ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য প্রথমেই যা প্রয়োজন:
ভিডিও এডিট করতে প্রথমেই যে বিষয়টি চলে আসে তা হলো আমাদের প্রথমে ভালো মানের একটা ক্যামেরা ইউজ করে ভিডিও রেকর্ড করতে হবে। ভালোমানের ক্যামেরা মধ্যে বর্তমানে DSLR বা উন্নতমানের হাইডেফিনেশন ক্যামেরা সম্বলিত স্মার্টফোন ইউজ করতে পারেন। অন্যদিকে আরেকটি বিষয় হচ্ছে ভিডিও রেকর্ড করার জন্য সঠিক জায়গা নির্বাচন করা। জায়গা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বলতে চাই, এমন কিছু জায়গা নির্বাচন করতে হবে যেখানে পর্যাপ্ত আলো সরবরাহ আছে। সঠিক জায়গা নির্ধারনই আমাদের ভিডিও এডিটিং-করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভুমিকা পালন করবে।
সল্পখরচে ভালো মানের ক্যামেরা কোনটি:
বর্তমান বাজার অনুপাতে এবং আমাদের সাধ্য অনুযায়ী বিভিন্ন শপিং-মল ও কম্পিউটার এক্সোসরিজ-এর মার্কেটে সল্পদামে ভালোমানের DSLR ক্যামেরা সহ বিভিন্ন স্মার্টফোন পাওয়া যায়। যা আমরা কমবেশি সকলেই জানি। কিন্তু প্রতিদিন মার্কেটপ্লেসে গিয়ে এসব পন্য নিয়ে আমরা আলোচনা বা দরদাম না করায় যেকোনো পন্যের আপডেট জানতে আমাদের বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়। বর্তমানে ইউটিউবে ও দারাজে সার্চ করলে আপনারা সহজে বুঝে নিতে পারবেন কোন বাজেটের ক্যামেরাটি আপনার জন্য বেস্ট হবে।
বিঃদ্রঃ শুরোতে আপনারা চাইলে মোবাইলের কমপক্ষে ৮ মেগাপিক্সেল ক্যা্রমরা ব্যবহার করে ভিডিও রের্কড করতে পারেন।
ভিডিও এডিটিং করার সফটওয়্যার সমূহ:
প্রফেশনাল ভিডিও এডিট করতে কমবেশি সবাই ADOBE AFTER EFFECTS, SONY VEGAS, CAMTASIA-এর মত সফটওয়্যার গুলো ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এই সফটওয়ার গুলির সেটিংস ও ব্যবহার পদ্বতি অনেক কঠিন হওয়ায় এ ধরনের সফটওয়ারগুলি ব্যবহার করতে চায়না অনেকেই। এবং এই সফটওয়ারগুলোর কাজ শিখতে হলে চাই অভিজ্ঞতা বা কঠোর পরিশ্রম।
কিন্তু যারা ভিডিও এডিটিং-এ নতুন তাদের উদ্দেশ্যে আমি WONDERSHARE FILMORA সফটওয়্যারটি সাজেস্ট করব।
তার কারন হচ্ছে ভিডিও এডিটিং শিখার ক্ষেত্রে এই সফটওয়্যারটির সহজ ইন্টারফেস সবার মন কাড়বে। এবং কাজ করেও বেশ মজা পাওয়া যায়। WONDERSHARE FILMORA সফটওয়্যারটি দিয়ে বিভিন্ন ইফেক্ট যোগ করা ছাড়াও আরো অনেক নজরকাড়া ফিচার আছে যা দিয়ে ভালোমানের ভিডিও তৈরি করতে সফটওয়্যারটি বিশেষ ভুমিকা পালন করে। নিম্নে WONDERSHARE FILMORA সফটওয়্যারটির ফিচার সম্পর্কে আলোকপাত করা হলঃ
- বিল্ড ইন স্টাইলিস্ট ফন্ট।
- ডিসপ্লে জুম এন্ড ব্লার মাস্ক।
- ভিডিও ব্যাকগ্রাউন্ড চেঞ্জ ইফেক্ট।
- বিল্ড ইন স্ক্রিন রেকর্ডার।
- ডাউনলোড এবং ইনস্টলেশন-এর জন্য সম্পুর্ন অনলাইন/অফলাইন ইনস্টলার পাওয়া যায়।
- ৩০০টিরও বেশি ভিডিও ইফেক্ট বিল্ড ইন থাকায় আলাদা করে টেমপ্লেট ইউজ করার দরকার হয় না।
- ইনস্ট্যান্ট ভিডিও কার্টার থাকায় ভিডিও ক্লিপ কর্তন-এর জন্য আলাদা সফটওয়্যার-এর দরকার হয় না।
- ডাবল রোল ভিডিও করার জন্য বিশেষ ফিচার ফ্ল্যাশ মুড এই সফটওয়্যারটির অন্যতম আকর্ষণ।
এবার অন্যতম বিষয় হচ্ছে, উপরের সমস্ত সফটওয়্যারগুলি ডাউনলোড করার পর একটি সমস্যা থেকে যায় আর তা হল রেজিস্ট্রেশন করা। WONDERSHARE FILMORA সফটওয়্যারটির রেজিস্ট্রেশন নিয়েও কিছুটা ঝামেলা পোহাতে হয় আর সেজন্য আপনারা ইউটিউবের ভিডিও থেকে শিখে নিতে পারেন কিভাবে সফটওয়্যারটি ডাউনলোড ও ফ্রি রেজিস্ট্রেশন কর যায়।
ভিডিও এডিট করতে কোন কনফিগারের পিসির প্রয়োজন:
ভিডিও এডিটিং-এর জন্য কম্পিউটারের অন্যতম ভুমিকা পালন করে পিসির হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার। ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য হাই কনফিগারের পিসি গুলোর কোন বিকল্প নেই। আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যাদের পিসির কনফিগার হচ্ছেঃ ৩২বিট সম্বলিত ডুয়েল কোর সিপিও, র্যাম ২জিবি, গ্রাফিক্স কার্ড ৫১২ এমবি থেকে ১ জিবি তাদের একটা গুড নিউজ হচ্ছে উপরের সফটওয়্যারগুলির মধ্যে ৩২বিট সম্বলিত যেমনঃ CAMTASIA অথবা WONDERSHARE FILMORA সফটওয়্যারগুলির ভার্শন অনলাইন-এ পাওয়া যায় আর সেই ভার্শনগুলো দিয়েই আপনারা ভিডিও এডিটিং-এর কাজ শুরু করার ব্যাপারে প্রথম অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। আর যাদের পিসির কনফিগার হাই কোয়ালিটি তাদের বিষয়ে আর কিছুই বাড়িয়ে বলার নেই। আসা করি বুঝতে পেরেছেন সবাই।
ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য কোন সফটওয়্যার ব্যবহার সহজ:
এখানে আমাদের মনে রাখতে হবে ভিডিও এডিটিং-এর জন্য আমরা কে কেমন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হয়েছি। পাশাপাশি মনে রাখতে হবে অভিজ্ঞতা এমন জিনিস যে যত বেশি কস্ট করে দিন দিন অভিজ্ঞতা অর্জন করার চেস্টা করবে সে তত সাফলতা বয়ে আনবে এবং পাশাপাশি তার জ্ঞানের পরিধিও বৃদ্ধি পাবে। আর এই কথার প্রেক্ষিতে বলতে হয় ভিডিও এডিটিং বিষয়ক প্রায় সমস্ত সফটওয়্যার-ই সহজলভ্যতা বয়ে আনে তবে সেটা ঐ সফটওয়্যার-এর কাজ জানার উপর নির্ভর করে। আর নিজের মত করে বললে আমি বলবঃ CAMTASIA অথবা WONDERSHARE FILMORA-এই সফটওয়্যারগুলি ব্যবহার করলে যারা ভিডিও এডিটিং-এর জগতে নতুন তারা খুব অল্প সময়েই এসমস্ত সফটওয়্যারগুলির ব্যবহার সম্পর্কে ভালো জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন।
পরিশেষে বলতে চাইঃ
আমার এই পেজটি কোনো এক্সপার্ট ভাইদের জন্য নয়। যদি কোনো কথা ভুল উপস্থাপনা করে থাকি তাহলে সবার কাছে আমার আবেদন আমার ভুলগুলিকে সবাই ক্ষমাসুলভ দৃস্টিতে দেখবেন,পাশাপাশি আপনাদের মুল্যবান টিউমেন্ট-এর মাধ্যমে আপনারা আপনাদের মতামত শেয়ার করবেন। আগামী টিউন দেখার আমন্ত্রন জানিয়ে আজকের মত বিদায় নিচ্ছি- ধন্যবাদ পেজটি পড়ার জন্য। আল্লাহ্-হাফেজ।




2 Comments
thanks
ReplyDeleteGood
ReplyDelete